
সিনেমার চরিত্রের সাথে বাস্তবতার মিল হবার কথা নয়। দুই দুনিয়া একে অন্যের থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। পর্দার সামনে যে মানুষগুলো হাসি খুশি আর সুখী মানুষ হিসেবে থাকে অনেক সময়ই দেখা যায় পর্দার আড়ালে তারা সম্পর্কের টানাপোড়েন, কাজের চাপ থেকে শুরু করে নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত। এর থেকে জন্ম নেয় মানসিক অবসাদ এবং যার শেষ ফল অত্মহত্যার মতো ঘটনা। এই তো দু’দিন আগেই বলিউডের জনপ্রিয় তারকা সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। কেন আত্মহত্যা করেছেন তিনি সেই কারণ খোঁজা হচ্ছে। তবে শুধু সুশান্তই নন, বিভিন্ন সময় আত্মহত্যা করেছেন বলিউডের আরও একঝাঁক তারকা। আজ আমরা কথা বলবো এমন ১২ তারকাকে নিয়ে-
১. দিব্যা ভারতী: এক বছরে এক ডজন ছবির রেকর্ড করা এই অভিনেত্রীর মৃত্যু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। ১৯৯৩ সালের ৭ এপ্রিল নিজের ভারসোভার ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর রাতে নিজের ফ্ল্যাটে পার্টির আয়োজন করেছিলেন তিনি। সে পার্টিতে ফ্যাশন ডিজাইনার নীতা লুল্লা-সহ আরও বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব এসেছিলেন। পার্টি চলাকালীন সময়ে ব্যালকনি থেকে পড়ে যান তিনি। কিন্তু কিভাবে পড়ে গেলেন তা আজও অজানা।
২. পারভিন ববি: ১৯৮০-র দশকে বলিউড কাঁপানো অভিনেত্রী পারভিন ববির শেষ জীবন কেটেছে খুবই কষ্টে। সম্পর্কে ভাঙন তাঁকে ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতে দেয়নি। তার মৃত্যুদিন সম্পর্কে কারোরই কিছু জানা নেই। তার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে খবরের কাগজ আর দুধের প্যাকেট জমতে দেখে প্রতিবেশিরা খবর দেয় পুলিশে। এরপর পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে তার।
৩. নাফিসা জোসেফ: ২০০৪-এর ২৯ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় ‘বিউটি কুইন’ নাফিসা জোসেফের। জানা যায়, ব্যবসায়ী গৌতম খান্ডুজার সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা পাকাপাকি হয়েও ভেঙ্গে যায়। যার পরপরই অবসাদে চলে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন নাফিসা।
৪. সিল্ক স্মিতা: আইটেম গার্ল থেকে অভিনেত্রী হয়ে উঠতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। কিন্তু মুম্বইয়ের নিজের আবাসনে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। কেন করেছিলেন আত্মহত্যা? হতাশা, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নাকি অন্য কিছু, জানা যায়নি আজও।
৫. গুরু দত্ত: মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তার মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত। মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করার কারণে নাকি মৃত্যু হয়েছিল ‘কাগজ কে ফুল’ খ্যাত এই অভিনেতা-পরিচালকের। তার ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, মৃত্যুর আগের দিনও বেশ হাসিখুশি ছিলেন গুরু। আত্মহত্যা, নাকি ভুলবশত ওভারডোজ? আজও জানা যায়নি।
৬. জিয়া খান: জুহুর ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছিল তার সেই সময়ের বয়ফ্রেন্ড সূরজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে। জিয়া যখন আত্মহত্যা করেন, তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জিয়ার মা দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতির চাপে পড়ে জিয়া বাধ্য হয়েছিলেন এমন একটা চরম সিদ্ধান্ত নিতে। জিয়ার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল সুইসাইড নোট।
৭. অর্চনা পাণ্ডে: ২০১৪-র ২৯ সেপ্টেম্বর মুম্বইের ভারসোভাতে নিজের ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মডেল অর্চনা পাণ্ডের। তার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। তাতে বয়ফ্রেন্ড ওমর পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন অর্চনা।
৮. কুলজিৎ রণধাওয়া: প্রাক্তন এই মডেলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ২০০৬-এর ৮ সেপ্টেম্বর। জুহুতে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দেহ উদ্ধার হয়। হিপ হিপ হুররে, কোহিনূর-এর মতো জনপ্রিয় শো-এ ছিলেন তিনি। সুইসাইড নোটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেছিলেন কুলজিৎ।
৯. বিবেকা বাবাজি: ভারতের অন্যতম সেরা মডেল বিবেকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার ঘর থেকে পাওয়া একটি ডায়েরিতে লেখা ছিল- আই কিল। সন্দেহ করা হয়, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মনোমালিন্যই তার এই পথ বেছে নেওয়ার কারণ।
১০. কুনাল সিংহ: ‘দিল হি দিল ম্যায়’ ছবির অভিনেতা। ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। যদিও অভিনেতার বাবার দাবি, কুনালকে খুন করা হয়েছে।
১১. মনমোহন দেশাই: অমর আকবর অ্যান্টনি, কুলি, ধরমবীর-এর মতো সুপারহিট হিন্দি ছবির পরিচালক মনমোহন দেশাই বাড়ির ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, ফিল্মি কেরিয়ারে অসাফল্যের জন্যই আত্মহত্যা করেছেন পরিচালক। আবার এই তথ্যও উঠে এসেছে যে, পিঠের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কিন্তু তার আত্মহত্যার আসল কারণ আজও রহস্য ঘেরা।
0 মন্তব্যসমূহ